1. admin@sobsomoynarayanganj.com : admin : MD Shanto
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে রেকর্ড ৬৩৫ রোগী হাসপাতালে, একজনের মৃত্যু সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ ও মতবিনিময় সভা শক্তি রূপিনী দুর্গা মোবাইল চুরির অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের নির্যাতন বন্ধ করার দাবিতে পাগলায় জাগ্রত মুসলিম জনতার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বন্দরে মিশুক চালক কায়েসের হাত-পা বাধা জবাইকৃত লাশ উদ্ধার বন্দরে সরকারী স্কুলের জায়গা দখল করে রেখেছে ভূমিদস্যু জালাল আমাদের বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে : মির্জা আজম খেলাধুলা মন-মানসিকতা ও শারিরীক বিকাশ ঘটায় : জাকির হোসেন চেয়ারম্যান বন্দর রুপালী আবাসিক এলাকায় অবৈধ মেলা

বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন সমাবেশ

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২
  • ৪৪ বার পঠিত

তৌফিক এলাহী
বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

নারীর মজুরীবিহীন গৃহস্থালি কাজের আর্থিকমুল্য নিরুপণ করা ও নারীর কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুন) বেলা ১২টায় শহরের সাতমাথা চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জেলা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি এ্যাড. দিলরুবা নূরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক আকলিমা বেগম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নিয়তি সরকার নিতু, সদস্য পূজা প্রামানিক প্রমুখ।

বাসদ আহবায়ক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি নেই বলে পরিবারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গৃহিনী নারীদের অংশগ্রহণ তার স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা খুব একটা গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ সংসারে নারীদের দায়িত্ব যত আছে অধিকার সে পরিমানে নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমান সম্পত্তি ভাগ করার আইন আছে। অর্থাৎ যদি ২০ বছর সংসার করার পর কোন স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে এই ২০ বছরে সৃষ্ট মোট সম্পত্তি সমান সমান ভাগ হবে। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো সংসার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীর শারীরিক-মানসিক শ্রম থাকা সত্তেও নারীরা স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির প্রায় কোন অংশই পান না। ফলে গৃহিনীরা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক সময় আর্থিক নিশ্চিয়তা নেই বলে অনেকে অত্যাচারিত হয়েও স্বামীর সাথে থাকতে বাধ্য হন। অথচ বিয়ের পর ঐ সংসারের যা কিছু সম্পদ-সম্পত্তি অর্জিত হয়েছে গৃহিনী নারীরও সেখানে পরিপূরক ভূমিকা আছে। গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নিরূপণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে পরিবারের ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হতো। পারিবারিক নির্যাতনও কমতো।

সভাপতির বক্তেব্যে এ্যাড. দিলরুবা নূরী বলেন, পৃথিবীতে এমন কোন কাজ নেই যার ফলাফল নেই। কাজ সেটা ছোট হোক বা বড় হোক তার প্রভাব পড়বেই। কিন্তু এমন অনেক কাজ আছে যে কাজের ফলাফল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়ে। মানুষের শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক জীবন বিকশিত হওয়া তো দূরের কথা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে কিন্তু সে কাজ হলো এমন ধরণের কাজ যার কোন স্বীকৃতি নেই, যে কাজের মর্যাদা নেই এমনকি যে কাজকে তাচ্ছিল্য করা হয় সবসময় আর যারা এই কাজ করেন তাদের কোন পারিশ্রমিক নেই। এই স্বীকৃতিবিহীন, মর্যাদা বিহীন, মজুরী বিহীন কাজের নাম গৃহস্থালি কাজ। এইসব কাজের ৮০ ভাগের বেশি করেন নারীরা। উদয়াস্ত ক্লান্তিকর এই গৃহস্থালি কাজ ছাড়া সমাজ ও পরিবার টিকে থাকা অসম্ভব। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, মজুরীবিহীন কাজে পুরুষের চেয়ে নারীর অংশগ্রহণ দিনে ৬.৪৬ ঘণ্টা বেশি। নারীর গৃহস্থালি কাজ, যার বাজারমুল্য বা বিনিময় মুল্য নেই, যা বাজারজাত করা যায় না তা জিডিপিতে যুক্ত হয় না এমনকি শ্রম শক্তির হিসেবেও গণ্য হয় না। গবেষণা সংস্থা সানেমের তথ্য অনুযায়ী যদি গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মুল্য হিসাব করা যায় তাহলে তা দাঁড়াবে নারীর ক্ষেত্রে জিডিপির ৩৯.৫৫ শতাংশ এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে যে নারীর কাজের ৭৮- ৮৭ শতাংশই অর্থনৈতিক হিসাবে আসে না। ঘরে বাইরে নারী যে কাজ করে তার পুরোটা হিসাবে আনলে এবং আর্থিক মুল্য বিবেচনা করলে জিডিপিতে নারী পুরুষের অবদান সমান হবে। তখন আর কেউ বলতে পারবে না যে নারীরা কোন কাজ করে না।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট গত ৯ জুন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেখানে গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নিরুপণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির বিষয়টি অনালোচিতই রয়ে গেল। বিষয়টিকে পুরোপুরো উপেক্ষা করা হলো। অন্যদিকে জেন্ডার বাজেটে যে বরাদ্দ গত বছর রাখা হয়েছিল এবারের বাজেটে তার থেকে ১.০৬ শতাংশ। অথচ করোনা অতিমারিতে বাল্যবিবাহ বেড়েছে ১০%, নারী নির্যাতন বেড়েছে ১০ শতাংশ। এত অল্প বাজেটে কিভাবে নারীর সামাজিক নিরাপত্তা দিবে রাষ্ট্র। যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা একদিকে যেমন অপ্রতুল অন্যদিকে সেখানে সেই বরাদ্দগুলো নারীর কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতি এমন যে তা নারীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন। সেই সাথে সে বরাদ্দ যেন নারীর প্রতি করুনা দেখানো হয় ভাতা প্রদানের নামে। বরং বরাদ্দ করা দরকার ছিল অসহায়-দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনের জন্য। নারীর কর্মজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দরকার ছিল গ্রাম-শহরে, এলাকায় এলাকায়, প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে, উপজেলায়, জেলায় সরকারি উদ্যোগে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসম্মত ডে-কেয়ার সেন্টার, কর্মজীবী হোস্টেল। নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে বাজেট পাশের পূর্বে নারীর কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার সেন্টার, কর্মজীবী হোস্টেল, পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করার দাবি জানান।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Bartoman News
Theme Customized By Theme Park BD