1. admin@sobsomoynarayanganj.com : admin : MD Shanto
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে রেকর্ড ৬৩৫ রোগী হাসপাতালে, একজনের মৃত্যু সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সংগ্রহ ও মতবিনিময় সভা শক্তি রূপিনী দুর্গা মোবাইল চুরির অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনের নির্যাতন বন্ধ করার দাবিতে পাগলায় জাগ্রত মুসলিম জনতার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বন্দরে মিশুক চালক কায়েসের হাত-পা বাধা জবাইকৃত লাশ উদ্ধার বন্দরে সরকারী স্কুলের জায়গা দখল করে রেখেছে ভূমিদস্যু জালাল আমাদের বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে : মির্জা আজম খেলাধুলা মন-মানসিকতা ও শারিরীক বিকাশ ঘটায় : জাকির হোসেন চেয়ারম্যান বন্দর রুপালী আবাসিক এলাকায় অবৈধ মেলা

বন্দরে রাজাকার পুত্র মাকসুদ বাহিনীর তান্ডবে গ্রামছাড়া ধর্ষিতার পরিবার

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ৭১ বার পঠিত

বন্দর প্রতিনিধিঃ

বন্দরে বিচার সালিশ না মেনে গনধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা করার জের ধরে রাজাকার পূত্র মাকসুদ বাহিনীর তান্ডবের ভয়ে গ্রামছাড়া হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার।

মামলা দায়েরের পর মামলার আসামীদের স্বজনরা প্রকাশ্যে ধর্ষিতা কিশোরীর নিজ বসত ঘর ও তার স্বজনদের বাড়ি ঘরে লুটপাট চালালেও পুলিশ এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগী ধর্ষিতার পরিবার গনমাধ্যমের কাছে এ অভিযোগ করে। মধ্যযুগীয় বর্বরতা কায়দায় লুটপাটের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুছাপুর ইউপির চিড়ইপাড়া কলোনীতে।
সর্বশেষ শুক্রবারে বিকালে প্রকাশ্যে ধর্ষিতার কিশোরীর মামা রিকশা চালক মো. বাচ্চু মিয়ার ঘরের আসবাবপত্র লুটপাটের পর ধর্ষণ মামলার আসামির বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লুন্ঠিত মালামাল ফেরত পাঠালেও আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
জানাগেছে, গত ১৯ মার্চ শবেবরাত রাতে উপজেলা মুছাপুর ইউপির চিড়ইপাড়া কলোনীতে এক কিশোরকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে একই মৃত শাহজউদ্দিনের ছেলে বাস চালক মো. রকি ও তার চাচাতো ভাই শুকুর আলী আলমগীর। গনধর্ষণের ঘটনাটি বিচার সালিশ না মেনে ধর্ষিতার পরিবার থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার পূত্র মাকসুদ হোসেন।

গত ২২ মার্চ বিকালে মামলার আসামি মো. রকিকে চিটাংরোড এলাকায় দেখে ধাওয়ার করে ধর্ষিতা তরুণীর দুই ভাই শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম। এসময় আসামি রকি ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়। আহত অবস্থায় পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আসামি রকির মৃত্যু হয়। সড়ক দূর্ঘটনায় আহত আসামির মৃত্যুকে পুজি করে রাজাকার পূত্র মাকসুদ বাহিনীর সদস্য ধর্ষণকারি আলমগীর ও নিহত রকি পরিবারের তান্ডবে মারধরের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে গ্রামছাড়ে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার, দুই মামার পরিবার। পরে ধর্ষিতার পরিবার ও স্বজনদের বাড়ি ঘরের আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে আসামি আলমগীর ও অন্যান্যরা। শুক্রবার বিকালে ধর্ষিতার মামা মো. বাচ্চু মিয়ার ঘরে লুটপাট চালায় ধর্ষণকারি আলমগীর তার পিতা হত্যা ও মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শুক্কুর আলী, ওয়ারেন্টের আসামি আছমা, জনি, আসলাম ও নিলুফা সহ আরো ৬-৭ জন। ধর্ষিতা পরিবারকে গ্রামছাড়া করে তাদের বাড়ি ঘরে আসামিদের সর্বশেষ লুটপাটের বিষয়টি স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ধর্ষণ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহাবুব আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লুণ্ঠিত মালামাল ফেরত পাঠিয়ে দেয় ধর্ষিতার মামা বাচ্চুর পরিবারের কাছে। লুণ্ঠিত আসবাবপত্রের মধ্যে ফ্রিজ, টিভি, খাটসহ অন্যান্য ফেরত পেলেও নগদ টাকা ফেরত পায়নি বলে ভূক্তভোগী বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ।

ধর্ষিতা কিশোরীর মা শাহিদা বেগম জানান, আমার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর প্রথমে মাকসুদ চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি শুক্কুরের পরিবার ভালো বলে বিষয়টি পরে দেখবেন বলে তারিয়ে দেয়। পরে আমি নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করি। থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মাকসুদ চেয়ারম্যান। আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় পরিস্থিতি অন্যখাতে নিয়ে আমার পরিবার ও স্বজনদের গ্রামছাড়া করে আসামি ও তার পরিবার। আসামি ও আসামি পরিবারের ভয়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্রে বসবাস করলেও আমার মেয়ের ধর্ষণকারি আলমগীর নিজ বাড়িতে অবস্থান করে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। লুটপাটে অংশ নেওয়া অপর আসামি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত রকির মা আছমা ও তার ছেলে জনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা থাকা সত্বেও পুলিশ গ্রেপ্তার করছেন। এছাড়াও ধর্ষণের ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষীকেও গ্রামছাড়া করে রেখেছে তারা।

এ ব্যপারে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি গনমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে ক্ষেপে গিয়ে লাইনটি কেটে দেন। পরে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ধর্ষিতার পরিবার ও স্বজনদের বাড়ি ঘরে আসামি পরিবারের লুটপাটের সত্যতা শিকার করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাহাবুব আলম জানান, ধর্ষিতার স্বজনদের ধাওয়া খেয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত আসামি রকি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শক্ত অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Bartoman News
Theme Customized By Theme Park BD