1. admin@sobsomoynarayanganj.com : admin : MD Shanto
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর মান্টিব্যাগেও মনে হয় গ্লিসারিন থাকে : রুহুল কবির রিজভী সোনারগাঁয়ে মিনা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে টিপুর নেতৃত্বে ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদলের যোগদান মহালয়া, আনন্দময়ীর আগমন বেতনসহ ৫ দফা দাবিতে প্যারাডাইজ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ডিক্রিরচরে জমিতে খুঁটি বসানোর চেষ্টা কোস্টগার্ডের, এলাকাবাসী বাধা! চাঞ্চল্যকর রাকিব হত্যা মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার নাগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি প্রসঙ্গে নেতাকর্মীরা এটা তারেক জিয়ার নির্দেশিত কমিটি না, এটা টাকার বান্ডিলের ফসল সসাসের দু’দিনব্যাপী জাতীয় সঙ্গীত কর্মশালা অনুষ্ঠিত। নালিতাবাড়ী পৌর বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাচনে মানিক সভাপতি সোহাগ সম্পাদক নির্বাচিত

শনাক্ত হওয়ার পরও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন কনস্টেবল নাজমুল

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৮ বার পঠিত

ঢাকার সড়কে কলেজ শিক্ষককে উদ্দেশ করে ‘টিপ পরছস কেন’ বলে হেনস্তাকারী পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। শনাক্ত হওয়ার পর তিনি দায় এড়িয়ে দাবি করেন, ঘটনার দিন সকালে ফার্মগেটে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন গায়ে পা লাগা নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক নারী পথচারীর ঝগড়া হয়।

তবে তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে, নাজমুলের বক্তব্যের সত্যতা মেলেনি। তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার দিন তিনি যে রুটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই রুটের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখা হয়েছে। ওই রুটে তেজগাঁওয়ের মণিপুরিপাড়া এলাকার ফুটেজে তাকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু তার মোটরসাইকেলের পেছনে কোনো নারীকে দেখা যায়নি।

ঘটনার শিকার শিক্ষক ড. লতা সমাদ্দারও বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি পুলিশের ওই সদস্যের স্ত্রী বা কোনো নারীকে সেখানে দেখেননি।

গত শনিবার সকালে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের এই শিক্ষক নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তার অভিযোগ, তিনি ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে গেলে পুলিশের পোশাক পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি তার কপালের টিপ নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ জানালে ‘টিপ পরছস কেন’ বলে গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে তার ওপর মোটরসাইকেল তুলে দিয়ে প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। ড. লতা সমাদ্দার ঘটনা জানিয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেছেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ূয়া বলেন, জিডির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে এরই মধ্যে আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার শিকার শিক্ষকের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা শুধু জিডির তদন্ত করছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুরো ঘটনা তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় থেকে আলাদা দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত সোমবার অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার পর পুরো ঘটনা জানা যাবে।

ডিএমপির অপর এক কর্মকর্তা বলেন, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যায় না। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা মিললে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মোটরসাইকেলটি কনস্টেবল নাজমুলের :শিক্ষক লতা সমাদ্দার তার জিডিতে পুলিশ সদস্যের ব্যবহার করা মোটরসাইকেলের নম্বর (১৩৩৯৭০) উল্লেখ করেছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ূয়া বলেন, অভিযোগকারী মোটরসাইকেলের পুরো নম্বরটি দিতে পারেননি। তবে তারা বিআরটিএর সহায়তায় শনাক্ত করেন, ওই নম্বরের ঢাকা মেট্রো ‘হ’ সিরিয়ালের মোটরসাইকেলের মালিকের বাসা মিরপুর। তার কাছে গিয়ে তারা জানতে পারেন, মোটরসাইকেলটি অনেক আগেই চুরি হয়েছে। তিনি এর জিডির কপিও দেখান।
এতে সন্দেহ দেখা দেয়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য চোরাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন কিনা। তবে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সারাদেশে জিডিতে উল্লিখিত নম্বর ধরে যাচাই করতে গিয়ে নিশ্চিত হয়, মোটরসাইকেলের মালিক কনস্টেবল নাজমুল তারেক নিজেই।
উল্লেখ্য, প্রতিটি জেলা ও মহানগরে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে একই ধরনের দুটি নম্বর থাকতে পারে। ১০০ সিসির ওপরে ‘ল’ এবং নিচে ‘হ’ সিরিয়ালে এই নিবন্ধন হয়। অভিযুক্ত কনস্টেবলকে শনাক্তের পর দেখা যায়, ‘যশোর ল ১৩-৩৯৭০ নম্বর’ মোটরসাইকেলে ছিলেন তিনি। সেটি তার নামেই নিবন্ধন করা।

লিয়াকতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু :এদিকে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে ক্লোজ হওয়া সিলেট জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিদর্শক লিয়াকত কৃতকর্মের জন্য তদন্ত কমিটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশ স্পর্শকাতর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার এ বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করেছে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল ওই পরিদর্শকের বক্তব্য নেয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘লিয়াকত আলী কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, তিনি বড় ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাই পুলিশ সুপার জানার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছেন। সদর দপ্তরকেও জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত সোমবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে টিপকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের বিদ্রুপ করেছিলেন পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এতে তিনি নারীর পোশাক নিয়েও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে সোমবার সন্ধ্যার পরপর তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তবে অনেকেই পোস্টের স্ট্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে আপলোড করে এর প্রতিবাদ জানান।সূত্র,সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Bartoman News
Theme Customized By Theme Park BD